কৃষি প্রণোদনা বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২১

 

মহামারি করোনায় কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় এবং এক টুকরাও জমি যাতে অনাবাদি না থাকে সে জন্য কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই তহবিল থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ। ঋণ পেয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ৭১৭ জন কৃষক। চলতি মাসের মধ্যেই এই তহবিলের পুরো অর্থ বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে এক মাসেই দেড় হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ বিতরণ করতে হবে। তবে চুক্তিবদ্ধ অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় এক মাসেই তাঁদের পক্ষে এত বেশি ঋণ বিতরণ কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

গত বছরের ১৩ এপ্রিল কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্যাকেজের আওতা নির্ধারণ করা হয় মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাত। আর সুদের হার নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৪ শতাংশ। এই তহবিল গঠনের সাড়ে ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো ঋণ বিতরণ বাকি আছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ। অভিযোগ আছে, শাখা পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে কৃষকরা প্রণোদনার এই ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু যাঁরা প্রণোদনা ঋণ নেবেন, তাঁদের কাছ থেকেই আবেদন কম আসছে। তার পরও যথাসময়ে ঋণ বিতরণ শেষ করতে আমাদের শাখা ব্যবস্থাপকদেরও উদ্বুদ্ধ করছি। আঞ্চলিক শাখাগুলো এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেষ্ট। আশা করছি একটা ভালো ফল আসবে।’

শুরুতে করোনা আতঙ্ক, বন্যা ও ঘূর্ণিঝর আম্ফানের কারণে এই তহবিলের ঋণের চাহিদা কম ছিল। পরে এই তহবিলের ঋণের চাহিদা বাড়লেও ব্যাংকের অনাগ্রহের কারণে ঋণ বিতরণে গতি আসেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তহবিলের ঋণ বিতরণে গতি আনতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় প্রথম দফায় সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ওই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট ৪৩টি ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংক তাদের টার্গেটের ৫০ শতাংশও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এই সময়ে দুটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের কম ঋণ বিতরণ করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা চারটি। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশের কম ঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের সংখ্যা ছয়টি। ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশের নিচে আছে আরো ছয়টি। আর ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে পাঁচটি। তবে এ সময়ে কয়েকটি ব্যাংক ঋণ বিতরণে বেশ ভালো করেছে। এ সময়ে ৮০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ১৩টি। এর মধ্যে একটি ব্যাংক শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কৃষি খাতে ঘোষিত প্রণোদনার নীতিমালা অনুযায়ী এই তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্ধারিত ১ শতাংশ সুদে পুনরর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। এই সুদহার নতুন ও আগের উভয় গ্রাহকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই তহবিলের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১৮ মাস (ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ)। এদিকে করোনার কারণে প্রণোদনা তহবিল ঘোষণার পাশাপাশি এই খাতের অন্য সব ঋণের সুদহারও কমানো হয়েছে। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সব ধরনের ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। আগে কৃষিঋণের সাধারণ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ, এখন সেখানে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কৃষকের সুদ কমে হয় ৪ শতাংশ।