শনিবার , ২২ অক্টোবর ২০২২ | ১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অভিযোগ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আগুন দুর্ঘটনা
  6. আটক
  7. আন্তর্জাতিক
  8. আরো
  9. আলোচনা সভা
  10. ইসলামিক
  11. উদ্ধার
  12. কবিতা
  13. কমিটি গঠন
  14. কৃষি সংবাদ
  15. ক্যাম্পাস

ইবি ছাত্রী যে কারণে ইসলাম গ্রহণ করলেন

প্রতিবেদক
ঢাকার টাইম
অক্টোবর ২২, ২০২২ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার এম বাদশা মিয়া :

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ওই ছাত্রীর নাম সুপ্রিতী দত্ত তমা (২৪)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বেচ্ছায় গত পাঁচ বছর আগে কালেমা পড়ে ধর্মান্তরিত হন তিনি। এরপর থেকে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের অগোচরে গোপনে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছিলেন। অবশেষে গত ১৯শে অক্টোবর তিনি ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে হলফনামায় স্বাক্ষর করে ধর্ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। পরদিন ২০শে অক্টোবর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। হলফনামায় স্বাক্ষরকারী আইনজীবী আলমামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি নিজের নাম রেখেছেন ত্বহিরা তাসনিম আয়াত। তবে নওমুসলিম ওই ছাত্রী এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি নিজেই অভিযোগ করেছেন।

সূত্র জানায়, নওমুসলিম ওই ছাত্রীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌরসভার গোবিন্দপুরে। বাবার নাম শ্যামল দত্ত আর মায়ের নাম বন্ধনা দত্ত। ছোটবেলা থেকেই খুব ধর্মপ্রাণ ছিলেন তমা (আয়াত)। স্কুল থেকে ফেরার পথে নিয়মিত মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করতেন তিনি। পরিবারের বিভিন্ন পূজার দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হতো। স্কুল-কলেজে থাকা অবস্থায় ফ্যাশনেবল লাইফ লিড করতেন। বন্ধু-বান্ধবদের সংখ্যাও ছিলো প্রচুর। সেসময় মুসলিম সহপাঠীদের সাহচর্যে থেকে ইসলামের বিভিন্ন রীতিনীতি দেখে তিনি মুগ্ধ হতেন। এজন্য তিনি গোপনে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। স্কুলে থাকা অবস্থায় এলাকারই একটা মুসলিম ছেলে তার সহপাঠী ছিলো। সেই ছেলের মাধ্যমে তার মুসলিম পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয় তমার। তমার ভাষ্যমতে, ‘ওই ছেলের পরিবারটা খুবই দ্বীনি পরিবার। তার বাবা একটি মসজিদের খতিব, এলাকায় ভালো সুনাম আছে।’

সেই মুসলিম পরিবারের ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার পরিবেশ দেখে ভালো লাগতো তমার। পরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়াবলি পড়া এবং ওয়াজ শোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। একপর্যায়ে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে হিন্দু ধর্মের সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মূর্তি ভেঙে দেয়ার ঘটনা আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। তিনি সব ছোট মূর্তিগুলো ভেঙে বড় মূর্তির হাতে কুঠার ধরিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কাফেররা এসে যখন জিজ্ঞাসা করলো মূর্তিগুলো কে ভেঙেছে, তখন ইব্রাহীম (আঃ)-বলেছিলেন বড় মূর্তির হাতে যেহেতু কুঠার আছে তাহলে মূর্তিগুলো সেই ভেঙেছে। পরে কাফেররা বললো সে তো মূর্তি, সে কীভাবে ভাঙবে? তখন ইব্রাহীম (আঃ)-বলেছিলেন, মূর্তির যখন ক্ষমতাই নেই, তাহলে কেন তাকে পূজা করতে হবে?’

এই ব্যাপারটা মারাত্মক প্রভাব ফেলে তমার উপর। যার ফলে হিন্দু ধর্মের প্রতি তার ভক্তি আর শ্রদ্ধা দিনের পর দিন কমতে শুরু করে। তিনি জানান, ‘কোন পূজা করতে গেলে আগের মতো পারতাম না। পূজা ঠিকই করতাম, কিন্তু মন থেকে ফিলিংস আসতো না। মূর্তি গুলোর দিকে একটানা তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, সৃষ্টি কীভাবে স্রষ্টাকে তৈরী করতে পারে আর একেকটা ঠাকুর দেখতে একেক রকম কেন?’

ধীরে ধীরে মুসলিমদের আচার-আচরণে আকৃষ্ট হন তমা। তিনি জানান, ‘যতটুকু ইসলাম সম্পর্কে জানতাম তা আমার ধর্মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতাম। কত সুন্দর আবরণের মধ্যে থাকে মুসলিম নারীরা। এই বিষয়গুলো আমাকে খুব আকর্ষণ করতো। একটা সময় বুঝতে পারি ইসলামই শ্রেষ্ঠ ও সত্য ধর্ম। পরে ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় মসজিদের খতিবের মাধ্যমে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। তবে ভয়ে বাড়ির কাউকে কিছু জানাইনি তখন।’

ইসলাম গ্রহণের পর নানা পরিবর্তন শুরু হয় তমার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘ইসলামী দ্বীনের বুঝটা আসার পর ধীরে ধীরে আমার মধ্যে পরিবর্তন শুরু হয়। তখন মাঝেমধ্যে সালাম দেয়া ও মাথায় কাপড় দেয়াসহ ইসলামী বিধান মানার চেষ্টা করতাম। এমনকি ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করি। স্কুল লাইফের সেই মুসলিম ছেলেটির প্রতি এক সময় দুর্বল হয়ে পড়ি। যখন বুঝতে পারলাম এটা হারাম সম্পর্কের দিতে যেতে পারে, তখন ওই ছেলের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়িয়ে দিই।’

তমার মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পেয়ে একসময় তার পরিবার সন্দেহ করতে শুরু করে। তমা বলেন, ‘পূজাতে ঠিকমতো উপস্থিত হই না, অঞ্জলির দিন অঞ্জলি দিতে চাই না এরকম বেশকিছু বিষয় পরিবারের লোকজন আমার মধ্যে লক্ষ্য করে। পরে তারা বিষয়টা নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করে। একপর্যায়ে কোন একটা মাধ্যমে ২০১৭ সালের দিকে তারা বিষয়টি জেনে যায়। পরিবার তখন ভাবে হয়তো ওই ছেলের সঙ্গে আমার রিলেশন আছে আর সেজন্য আমি এতকিছু করতেছি। তারা বরাবরই ব্যাপারটা এভাবেই হাইলাইটস করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি পরিবারের মুখের উপর বলেছিলাম আমি এক আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং তার ইবাদাত ছাড়া অন্যকিছু করবো না। সেসময় কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তিকেও আমার বাসায় আনা হয়। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে ব্রেন ওয়াশ করার চেষ্টা করে। আমি তাদের বলেছিলাম কোনোভাবে ইসলাম ধর্মকে ছাড়া থাকতে পারবো না। সে সময় তারা আমার কাছে বিভিন্ন সূরা-দোয়া-জিজ্ঞাসা করে। আমি সেসময় তাদের তাশাহুদ শুনিয়েছিলাম। আর বাড়িতে লুকিয়ে নামাজ-কালাম পড়ার কথা তাদের জানিয়েছিলাম। পরে আমাকে প্রচণ্ডভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করে দেয়া হয়। মুখের মধ্যে ফেটে গেছিলো। খাবার খেতেও পারতাম না। তখন ওই ছেলের সঙ্গে আমার কোনরকম যোগাযোগ হতো না। তবুও পরিবার এই বিষয়টাই বারবার বলতো।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর গোপনে ইবাদাত করা শুরু করেন তমা। তিনি জানান, ‘খোলামেলা জীবন যাপন একদমই ভালো লাগতো না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর মানসিক শান্তি পেতাম না। মন চাইতো পর্দার মধ্যে থাকি এবং দ্বীনি কথা বার্তা শুনতে খুবই ভালো লাগতো

সর্বশেষ - সারা দেশ

%d bloggers like this:

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট