মঙ্গলবার , ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. আলোচনা সভা
  8. ইসলামিক
  9. কবিতা
  10. কৃষি সংবাদ
  11. ক্যাম্পাস
  12. খাদ্য ও পুষ্টি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম

খেলা।

প্রতিবেদক
ঢাকার টাইম
অক্টোবর ২৫, ২০২২ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

লেখকঃ সোয়েব মোহাম্মাদ

১.
এখন পুরো বাড়ি ফাঁকা,কিছুক্ষণ আগে নায়রার মা নিলুফা বেগম বড় মেয়ে,ছোট ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে গেলেন।বাড়িতে থাকার মধ্যে মেঝ সন্তান নায়রা আছে।অবশ্য নিলুফা বেগম নায়রাকে তাদের সাথে যাওয়ার কথা বলেছিল কিন্তু নায়রা রাজি না থাকায় তিনি খুব বেশি জেদ করলেন না।নায়রার না যাওয়াতে মনে মনে একটু খুশিই হলেন।তার খুশি হওয়ার কারণ বাড়িতে অনেক গুলো হাঁস-মুরগি,দুটো রামছাগল জাতের খাসি, একটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী আছে,যেগুলোর দেখা শোনার জন্য লোক থাকা প্রয়োজন।নায়রার বাবা সকাল আটটায় বাসা থেকে বেরিয়েছে অফিস করতে। ওনি উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা।অফিস শেষ করে তিনি সোজা শশুর বাড়িতে যাবেন।

অবশ্য নায়রা তাদের সাথে নানার বাড়িতে গেলেও বিশেষ কোন অসুবিধা হতো না।সে সাথে গেলে বাড়ি দেখভালের জন্য তার বড় চাচিকে এসবের দায়িত্ব দিয়ে দিতেন।তবে বাড়ির লোক নিজের জিনিসের প্রতি যতোটা যত্নবান হতে পারবে,পর লোক থেকে ততোটা যত্ন পাওয়া অসম্ভব একটু না একটু চিন্তা থেকেই যায়।নায়রার থাকাতে তার মা একটু হলেও স্বস্তিতে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে সময় কাটাতে পারবেন।

কয়েকদিন আগে নায়রার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।বর্তমানে পড়াশোনা না থাকায় নিশ্চিতে কয়েকটা দিন নিজের মতো করে কাটাতে পারবে।মা চলে যাওয়ার পর ফোন হাতে নিয়ে সেই বসেছে,এখন প্রায় দুপুর হতে চললো।দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকায় তার মনের ভিতর বিরক্ত ঘিরে ধরেছে।জানালার বাহিরে মৃদু হৈচৈ শুনে বিছানায় ফোন রেখে জানালার পাশে গিয়ে বাইরে তাকালো। জানালা থেকে সামান্য দূরে বেশ বড় সড় পুকুর,গ্ৰামের লোকজন রঘিনাথের পুকুর নামেই চেনে।ইংরেজ শাসনের সময় এ অঞ্চলের রাজা রঘিনাথ কৃষকদের পানি সেচের জন্য পুকুরটি খনন করেন।এখন আশেপাশে বাড়ি ঘর হওয়ায় দুপুর বেলায় এ পাড়ার মেয়ে-শিশুরা সেখানে গোসল করতে আসে।আর দুপুর হলেই শিশুরা পুকুরে নেমে হৈচৈ বাঁধে।নায়রা প্রায় দুপুর বেলা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে শিশুদের খেলা দেখে আনন্দ পায়।ছোট বেলায় সেও এমন করতো,এই পুকুরে তার কম স্মৃতি চাপা পড়ে নেই!

২.
কিছুক্ষণ আগে মসজিদে যোহরের আজান হলো,জানালার বাহিরে খাঁ খাঁ দুপুর।সবাই ঘরে বারান্দায় শুয়ে বসে আছে,চারপাশের পরিবেশ বেশ শান্ত ও ঝিমধরানো। জানালার পাশের মেহগনি গাছের ডালের ছায়ায় বসে দুটো কাক ঝিমুচ্ছে।টিনশেড ভেদ করে রোদের বাষ্পীয় তাপ ঘরে ঢুকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।এক মুহূর্ত ফ্যান ছাড়া ঘরে থাকা সম্ভব নয়।গোসল শেষ করে ড্রেসিংয়ের সামনে বসে শরীরের যত্ন নিতে বসেছে নায়রা। মুখে ক্রিম মাখতে গিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলো কপালের মাঝামাঝি স্থানে ক্ষুদ্র ব্রণের জন্ম নিয়েছে।গত কয়েক রাত ধরে জেগে জেগে মোবাইলে পড়ে থাকার ফল!

টং করে মেসেজ বেজে উঠলো।নায়রা সে শব্দ শুনতে পেলো ঠিকই কিন্তু ফোন বিছানায় থাকায় আর উঠতে ইচ্ছে করলো না।পুনরায় চুল আঁচড়ানোয় মনযোগ দিলো।এ সময় মনে মনে ভাবলো,“তখন লিমার সাথে মেসেজের অসমাপ্ত রেখে গোসলে গিয়েছিলাম,সেই হয়তোবা মেসেজ করেছে।অতো তাড়া নেই,এমন গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা নেই থাকলে অবশ্যই ফোন করতো।”

প্রায় ঘন্টা খানেক সময় পর রূপ চর্চার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে বিছানা থেকে ফোন হাতে নিলো। মেসেঞ্জার চেক করতে গিয়ে তার ভাবনা মিথ্যা প্রমাণিত হলো।লিমা মেসেজ করেনি,এক অপরিচিত ছেলের আইডি,নাম দেওয়া আছে শুভ্র আহমেদ।ফেসবুক ফ্রেন্ড হয়ে আছে,কিন্তু কোন দিন তার পোস্ট নজরে পড়েনি।

মেসেজে লিখা আছে,“আপনি ভীষণ রকমের সুন্দরী ও মায়াবী।যে কোন পুরুষের মন খুব সহজেই দখলে নেয়ার ক্ষমতা আপনার মধ্যে বিদ্যমান।”

নিজের প্রসংসা পেয়ে নায়রা সামান্য হেসে আয়নার দিকে তাকালো।খানিকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে পুনরায় হাসলো।এরপর উত্তর করলো,“ধন্যবাদ। কিন্তু আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।”

মেসেজ করা মাত্র সিন হলো এবং সাথে সাথে উত্তর আসলো,“আমাকে ঠিক চিনবেন না, ধরে নিন অপরিচিত কারো সাথে কথা বলছেন।”

নায়রা উত্তর করলো,“অপরিচিত মানুষের সাথে কোন কথা থাকতে পারে না।পরিচিত থাকলে না হয় কথা বলা যেত।”

এখন পরিচিত নেই কিন্তু কথা বলার মধ্যে পরিচিত হওয়া যায়। অপরিচিত থেকেই কিন্তু পরিচিত ঘটে তারপর ঘনিষ্ঠ অথবা বন্ধুত্ব ।

হুম।

“বাসা কোথায় আপনার?”

নায়রা মেসেজ দেখলো কিন্তু উত্তর করলো না।একটু পর পুনরায় মেসেজ আসল,“ কি ব্যাপার উত্তর করছেন না কেন?”

“আমার পরিচয় জানার বিশেষ কোনো প্রয়োজন আছে কি?”

“প্রয়োজন নেই ঠিকই কিন্তু অপ্রয়োজনীয় যে এমন নয়।জানার আগ্রহ থেকে জিজ্ঞেস করলাম।এটা কি আমার অন্যায়?”

“না অন্যায় নয়।”

“তাহলে উত্তর করতে আপত্তি কোথায়?”

“ওফ…! আপনি দেখছি নাছর বান্দি,ঠিক আছে বলছি।আমার বাসা রাজশাহীতে।”

রাজশাহী!

হুম।

“আমারো তো রাজশাহীতে।কিন্তু রাজশাহীর কোথায়?”

মোহনপুরে।

আমার বাগমারায়।

এভাবে কথা চলতে শুরু করলো। ছেলেটির সাথে চ্যাটিং করতে নায়রার খারাপ লাগছিল না,বাসায় কেউ নেই যে তার সাথে সময় কাটাবে।আবার তেমন বিশেষ কোন কাজ ও নেই যে সেখানে সময় ব্যায় করবে।

ছেলেটি মিশুক স্বভাবের,ঠিক নায়রার মতো।নায়রা দেখতে যে অমন্দ একথা বললে দাহা মিথ্যা বলা হয়ে যাবে।তার শরীরের পুরোটা সাদা বর্ণের চামড়া।দীর্ঘ কেশী কালো চুল কোমর স্পর্শ করেছে।হাল্কা গোলাকৃতি মুখমণ্ডল জুড়ে ছোট ছোট পশম।পাতলা চামড়ার ঠোঁটে সর্বদা রক্ত ফুটে থাকে, লিপস্টিক ছাড়ায় ঠোঁট দুটো বেশ সুন্দর দেখায়।স্বচ্ছ কাঁচের মত দুটো চোখ,গভীর দৃষ্টি দিলে মনে হবে চোখ দুটো ঝলমল করছে।চশমা পড়বার পরে মনে হয় সে বাংলাদেশে জন্মগ্ৰহণ না করে আমাদের পাশের দেশে জন্মালে বলিউডে কাজ করার সুযোগ পেত।তার এতো রূপ থাকা সত্ত্বেও কখনো কারো কাছে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা করেনি।কিংবা তার বাবা উপজেলা পর্যায়ের বড় কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও কেউ তার কাছ থেকে কখনো অহংকার শোনেনি।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা এসে প্রায় উপস্থিত,নায়রা এখনো চ্যাটিং এ ভীষণ ব্যস্ত।সময় কোথা হতে কোথায় কেটে যাচ্ছে সেদিকে তার খেয়াল নেই শুধু দুপুরের খাবার টুকু মুখে তুলেছে।নায়রার মা নানার বাড়িতে যাওয়ার পূর্বে সকাল ও দুপুরের ভাত রেঁধে দিয়ে বলেছিল সন্ধ্যা বেলায় যেন ভাত রেঁধে খায়।কিছুক্ষণ আগে তার মা ফোন করে বলে দেয় আজ রাতে তারা ওখানেই থাকবে।তার বাবা অফিস শেষ করে সেখানে গিয়েছে।

দুপুরে ভাত খেয়ে বেশ কিছু ভাত বেঁচে যায়, কোন ভাবে আরেক জনের খাওয়া হবে। দুপুরে ভাত খেয়ে ভাতে পানি দিয়ে রেখেছিল সে, ভেবেছিল তারা কেউ না আসলে রাতে পান্তা খাবে।মা আসবে না একথা জানার পরে রাতের খাবার হিসেবে পান্তা ভাত খাওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে পৌঁছেছে।সেই সাথে রাইসকুকারে বেগুন সেদ্ধ করে ভর্তা করবে বলে চিন্তা করেছে।

৩.
এখন প্রায় রাত এগারোটার কাছাকাছি,গ্ৰাম পুরো নিস্তব্ধ।বাহিরের ঝাউ জঙ্গল হতে অসংখ্য পোকামাকড় মিলিত কন্ঠে শান্ত সুরে চিৎকার করছে।একদিকে ভয় লাগতে পারে আবার অন্যদিক থেকে মানুষের চোখে নিদ্রা ধরিয়ে দেওয়ার গ্ৰাম্য অস্ত্র।জানালার পাশে বড় পাকুর গাছের কোন এক ডালে বসে অবিরাম ডাকছে নাম না জানা নিশাচর পাখি।তার সাথে হুতুম পেঁচা তাল মিলিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করছে।এসময় নায়রা বাদে গ্ৰামের একটি লোক জেগে আছে নাকি সন্দেহ।নায়রা আধশোয়া অবস্থায় মোবাইলে চোখ দিয়ে চ্যাটিং করছে।সকালে যাবার সময় তার মা বলে দিয়েছিল রাতে শোবার সময় চাচাতো বোন নিশিকে যেন কাছে রাখে। আবার সন্ধ্যা বেলায় ফোন করে একয় কথা বলে। কিন্তু নায়রার স্বভাব একা থাকা,বেশ ছোট থেকে একায় এক ঘরে ঘুমিয়েছে।এজন্য কাউকে সাথে নিয়ে ঘুমাতে তার অস্বস্তি বোধ হয়।

ছেলেটি আবার মেসেজ করেছে।মেসেজ আসাতে নায়রার ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা জমে উঠলো।রাত দশটায় খাবার খাওয়ার কথা বলে লাইন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন আবার ফিরে আসলো।

ওর মূল নাম সুমন আলী।নওগাঁ সরকারি কলেজে দর্শন নিয়ে অনার্স করছে।এবার সে ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।পড়াশোনার পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিতে মানসম্মত পদে চাকরী করছে।বাগমারা উপজেলা শহরে তাদের পরিবার বসবাস করে।বাবা আর্মি ছিলেন,কয়েক বছর আগে রিটার্ন হয়েছেন।বাড়ির একমাত্র সন্তান সুমন। পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও নিজের দায়িত্ব টুকু কারো ঘাড়ে চাপিয়ে না দিয়ে নিজের দায়িত্ব নিজেই পালন করে।

সে রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মাঝে চ্যাটিং চললো। কিন্তু আড়াইটার দিকে নায়রার চোখ তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় সে রাতের মতো সেখানেই চ্যাটিংয়ের সমাপ্ত হলো।মিশুক স্বভাবের দুইজন মানুষের মধ্যে মাত্র একদিনের সম্পর্কে বন্ধুত্বের জন্ম হলো। ঠিক তার মাত্র দুই দিন পর নায়রা অনুভব করলো সে সুমনের কোমল ও যত্নবান আচরণে প্রেমে পড়েছে।নায়রা ভাবতে পারেনি সে আবারো কারো প্রেমে পড়বে।কারণ তার জীবনে ইতিপূর্বে একবার প্রেম এসেছিল।যার যন্ত্রণা থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি।

নায়রা তখন নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে একয় স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাহিমের সাথে প্রণয়ের জন্ম ঘটে।দু’জন টিফিনের সময়ে স্কুলের পাশের জঙ্গলে গিয়ে প্রেম করতো, না হয় ফাঁকা ক্লাসরুমে বসে বসে গল্প গুজব করতো।

ভালোবাসাকে বুকের মধ্যে আত্মসাৎ করা গেলেও প্রেমকে কখনো আত্মসাৎ করা সম্ভব হয় না,বাতাসের সাথে সাথে গন্ধরাজ ফুলের মতো চারদিকে এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে।তাদের বেলায় ঠিক এমনটাই ঘটলো, প্রথমে ক্লাস রুমে তারপর কানাঘুষো হতে হতে একসময় পুরো স্কুল জানাজানি হয়ে গেল।শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট খবরটি গিয়ে পৌঁছালো।প্রধান শিক্ষক নূরুল হুদা বেশ কড়া মাপের শিক্ষক।তার কানে খবর পৌঁছানো মাত্রই পরের দিন দুজনের অভিভাবককে ডাকলেন।
প্রধান শিক্ষকের নিকট হতে মেয়ের জন্য নায়রার বাবা যে অপমানিত হলেন।তিনি কখনো ভাবতে পারেননি নিজের মেয়ের জন্য এভাবে কারো কাছে মাথা নত করতে হবে।

সেদিন বিকেলে নায়রা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর বাবা অনেক মারধোর করলেন।বললেন,“আর যদি কখনও শুনি ঐই ছেলের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রেখেছিস তাহলে তোর পড়ালেখা বন্ধ করে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিব।”

নায়রা বাবার মুখের উপরে কড়া জবাবে বলেছিল,“যদি কাউকে বিয়ে করতে হয় তাহলে মাহিমকেই বিয়ে করবো।আর মাহিমের সাথে বিয়ে না দিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আত্মহত্যা করবো।”

নায়রার বাবা বলেছিলেন,“যদি ঐই ছেলেকে বিয়ে করিশ তাহলে ভুলে যাব নায়রা নামে আমার কোন মেয়ে ছিল। তোকে সমস্ত কিছু থেকে বঞ্চিত করবো।এ বাড়ি চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।”

এই ঘটনার পর নায়রা মাহিমের সাথে দেখা করে বলে,“মাহিম আমাকে বিয়ে করে তোমার করে নাও। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। আমার বাবা কখনো তোমাকে মেনে নিবে না।”

উত্তরে মাহিম বলে,“নায়রা আমার পরিবারের সবারই তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে। তোমার সাথে আমার বিয়ে দিতে তাদের কোন আপত্তি নেই। তবে দুই পরিবারের সম্মতি ছাড়া তারা কোন ভাবেই মেনে নিবে না। তুমি তো জানোই আমাদের আর্থিক দূর্বলতার কথা।পরিবারের ইচ্ছে দুই পরিবারের সহযোগিতায় আমরা যেন সুন্দর পরিবার গড়ে তুলতে পারি।”

নায়রা সেদিন বুঝেছিল, মাহিম যতোটা না তাকে ভালোবাসেছে তার থেকে অধিক বেশি ভালোবেসেছে তার বাবার সম্পদকে।

নায়রার এই ধারণা সত্যি প্রমাণিত হতে খুব বেশি সময় লাগলো না।সে ঘটনার মাসখানেক পর কোন কারণ ছাড়াই নায়রার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করলো মাহিম।কিছুদিন যাবার পর নায়রার কানে খবর এলো সে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছে।
নায়রা এর কোন অভিযোগ কখনো মাহিমের কাছে দেয় নি,কোন জবাব চায় নি।সে নিঃশব্দে এই সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।সে ছোট হলেও জানতো জোর করে কারো থেকে কিছু আদায় করা যায় না, বিশেষ করে ভালোবাসাটা।তবে সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়ালেও মন থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি। মাহিমের জন্য তার হৃদয়ে ছিল পবিত্র ভালোবাসা। নিঃস্বার্থ ভালোবাসাতে পাপ থাকে না,তবে হৃদয়ে থাকে দুঃখ আর স্মৃতিতে থাকে শোক। প্রথম অবস্থায় নায়রা মাহিমকে হারানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।প্রায় দিন অরুচিতে সকালের আহার বিকেলে করেছে, প্রায়শ রাত ঘুমের বদলে স্মৃতি নিয়ে জাগিয়ে থেকে চোখ থেকে জল ধরিয়েছে।অবশ্য একবছর পেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সে নিয়মে ফিরে আসতে থাকে ঠিকিই তবে সব কিছু ভুলে যেতে পারে না। মাঝেমধ্যে খুব বেশি মনে পড়লে পুনরায় পুরোনো ক্ষত জেগে উঠে।এরপর কয়েকদিন ধরে মনের ভিতরে চলতে থাকে মানসিক যন্ত্রণা,তারপর আবার থেমে যায়।এভাবেই চলছিল সময়। কিন্তু সে ভাবতে পারেনি আবার সে প্রেমে পড়বে!

৪.
পরিচয়ের চতুর্থ দিন সুমন নিজেই তাকে প্রেম প্রস্তাব দিয়ে দিলো।নায়রা না করতে পারলো না,কেননা সে নিজেই তার আগে থেকে প্রেমে পড়ে গিয়েছে।দু’জনের সম্মতিতে শুরু হলো প্রেম অধ্যায়।সুমনকে ভালোবাসার পর থেকে নায়রা অনুভব করছে তার হৃদয়ে অতীতে যে দুঃখ ও মস্তিষ্কে যে শোক ভর করে ছিল তা অদৃশ্য হয়ে মনের ভিতরে জেগে উঠেছে সুখ! এতো সুখ সেই আগে কখনো পায়নি,এমনকি মাহিমকে প্রচন্ড ভালোবাসতে ও এতোটা সুখ ছিল না।

পরিচয়ের সপ্তম দিন মোহনপুর উপজেলা শহরে আসলো সুমন।নায়রাকে নিজ চোখে দেখার অস্থিরতা তার ভিতরে প্রবল।নায়রাও তার থেকে কম নয়।আধা ঘন্টা আগে থেকে সুমনের জন্য বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল সে। এখানেই তাদের দেখা হলো।সুমনকে প্রথমবার নিজ চোখে দেখার পরে নায়রার কখনো মনে হয়নি আজ প্রথম তাকে দেখছে।মনে হয়েছিল বহুদিন আগে থেকে তার সাথে পরিচয়।

বাসস্ট্যান্ড থেকে দু’জনে দুজনের হাত ধরে রাস্তার অপর পাশের একটি কফিশপের দিকে হাঁটছিল।সুমনের হাতের স্পর্শে নায়রা ভিতর থেকে নতুন করে জেগে উঠলো।তার মনে হলো এখন সে আর নিঃসঙ্গ নেই।তাকে নতুন করে বরণ করতে সে এসেছে।হয়তো তার জন্য গত দুই বছর ধরে এতো দুঃখ পোহাতে হয়েছে,হয়তো এটাই সেই সুখ যাকে বর্ণনা করা যায় না শুধু অনুভব করা যায়!

রাস্তার ওপাশে ঘাসফুল নামের একটি আধুনিক কফিশপ।দু’জনে সিদ্ধান্ত নিলো সেখানে গিয়ে বসবে।
ওয়েটার এসে টেবিলে কফি রেখে চলে গেল।কফি খেতে খেতে প্রেম গল্পে মগ্ন ছিল দুজনে। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে অনেক কথা বার্তার পরে সুমন যখন নায়রাকে বুকে জড়িয়ে নিলো নায়রার মনে হলো তার বুকে এতো দিন যে কষ্টরা বুকে জমে ছিল,তা জলীয় বাষ্পের মতো গলিত হয়ে বুকের ভিতরে সুখের সমুদ্রের সৃষ্টি হতে শুরু করেছে।

দুজনে সেখানে বেশ সময় ব্যয় করলো। কফিশপ থেকে বেরিয়ে সুমন নায়রাকে নিয়ে মার্কেটের ভিতরে ঢুকলো। এরপর নিজে পছন্দ করে নায়রার জন্য জলপাই রঙের একটি উড়না,সেই সাথে লাল রঙের লিপস্টিক কিনে দিয়ে বললো,“তোমার হলুদ রঙের থ্রিপিসের সাথে এই জলপাই রঙের উড়না দারুন মানাবে।সেই সাথে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক লাগলে তোমাকে অপরূপ দেখাবে।”

নায়রা হাসিমুখে তার উপহার গ্ৰহণ করলো। তারপর মার্কেট থেকে বেরিয়ে যে যার বাড়ির রাস্তা ধরল।

৫.

রাতের বেলায় খাবার শেষ করে মোবাইলে হাত দিতেই দেখতে পেল সুমনের মেসেজ। সুমন লিখেছে,“নায়রা আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছি।
তোমার সাথে দেখা করার পরে যে বাসে চড়ে বাড়ি ফিরছিলাম সে বাস ইলমপুর নামে স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে গিয়ে ধাক্কা খায়।ধাক্কায় বাসের ছাদ খসে গিয়ে যাত্রীদের উপরে পড়ে।প্রায় সকল যাত্রী সাধারণ থেকে গুরুতরভাবে আহত হয় আর সামনে থাকা তিনজন যাত্রী পরলোকগমন করেন।

সুমনের এই মেসেজ দেখে নায়রার হৃদয়ের ভিতরে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।বুকের ভিতরে কষ্টরা ভর করায় তার মনে হচ্ছে এ যন্ত্রণায় শরীর যেন ক্রমশ ভাড়ি হয়ে উঠছে।এই মুহূর্তে তার সুমনকে চোখে দেখার তৃষ্ণা জেগেছে, কিন্তু এই রাতে তাকে কোন ভাবেই দেখা সম্ভব নয়। নায়রা সিদ্ধান্ত নিলো যে করেই হোক আগামীকাল সে সুমনকে দেখতে যাবে। কিন্তু কিভাবে?এই চিন্তায় মাথার ভিতরে গিয়ে বিড় বিড় করতে লাগলো,উপায় তো একটা বের করতেই হবে। কিন্তু কোন উপায় মাথায় আসছিল না। মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটে,“খুব প্রয়োজনের সময় মাথায় কোন বুদ্ধি আসতে চায় না, প্রয়োজন ফুরালে সুক্ষ্ম উপায় বেরিয়ে আসে। কিন্তু সে সময় ঐই উপায়ের কোন গুরুত্ব থাকে না।”

চোখে কোন ঘুম নেই, সারাক্ষণ হাঁটছে কখনো আবার বসছে।কোথাও সুখ খুঁজে পাচ্ছে না সে।

রাত দুইটার দিকে তার প্রিয় বান্ধবী মীমকে ফোন করলো নায়রা।প্রথম বার ফোন গেল, কিন্তু রিসিভ হলো না। দ্বিতীয় ফোন করতেই ফোন কানে ধরে মেজাজ দেখিয়ে প্রশ্ন করলো,“কি ব্যাপার সারাদিন কোনো যোগাযোগ করলি না এতো রাতে কেন ফোন দিয়েছিস বলতো?এই সময় কেউ কি জেগে থাকে,নাকি ফোন করার সময় এখন?

নায়রা কোন রাগ করলো না, মাথা ঠান্ডা রেখে সুমনের ব্যাপারে সব ঘটনা তাকে জানালো।এরপর তাকে কি কি বলতে হবে সে সব বুঝিয়ে দিলো।মীম আশ্বাস দিলো তাকে সে সাহায্য করবে।একদিক থেকে নায়রা খানিকটা নিশ্চিত কিন্তু সুমনের কথা ভেবে তার মন বড় উতলা এই ভেবে যে,“ কখন সকাল হবে, কখন সে সুমনের কাছে পৌঁছাবে।”

চোখ মেলতে নিজেকে আবিষ্কার করলো টেবিলে।দীর্ঘ রজনী নিদ্রাহীন কেটে যাবার পরে ফজরের আজানের সময় তার দু’চোখ ঠেসে ঘুম এসেছিল।সকাল হতে আর বেশি দেরি নেই এভেবে ঘুমকে দমণ করার চেষ্টায় বার বার চোখ টেনে তোলার চেষ্টা করেছিল সে, কিন্তু পারেনি।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো এখন সকাল সাড়ে আটটা। দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে ফ্রেশ হতে গেল আঙিনায়।দাঁত ব্রাশ করতে করতে মাকে বললো,“মা আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছি,আজ বান্ধবীর বাড়িতে দাওয়াত আছে।ওর বড় বোনের ছেলের আকিকা উৎসব একটু পরে বের হবো।”
মা কিছু বলার আগে তার হাতে ফোন তুলে দিয়ে বললো,“ধরেন বিশ্বাস না হলে কথা বলেন।”
মীম গতকাল রাতে শিখিয়ে দেওয়া বুলি তার মাকে শোনালে মা যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে।

নায়রা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বেরিয়ে পড়ে বাগমারা সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। তাদের গ্ৰাম থেকে মোহনপুর শহর মাত্র তিন কিলোমিটার পথ সেখান থেকে বাগমারা দূরুত্ব প্রায় ২৭ কি.মির মতো।নায়রা শহর থেকে বাসে চেপে রওনা হলো তার গন্তব্যে।বাস চলছে তার গতিতে,একটু পর পর স্ট্যান্ডে থামতেই নায়রার বিরক্ত লাগতে থাকে।এক একটি মিনিট তার কাছে ঘন্টার সমান মনে হচ্ছে। অবশেষে প্রায় এক ঘন্টা কাছাকাছি সময় লাগলো সেখানে পৌঁছতে।

স্ট্যান্ড থেকে বিশ মিটার দূরে সরকারি হাসপাতাল।সেখানে যাওয়ার পথে তার মনে হলো ফল নেওয়ার কথা। অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া হচ্ছে ফল না নিয়ে গেলে কেমন দেখায়!এক কেজি আপেল কিনে দ্রুত পায়ে হাসপাতালের ভিতরে হাঁটতে লাগলো। গতকাল রাতে সুমনকে জিজ্ঞেস করেছিল সে কোথায় আছে?
তার আধা ঘন্টা পরে উত্তর করে,“দুই তলার এগারো নম্বর রুমের ৬ নম্বর বেডে ।”

খানিকক্ষণ সময় নিয়ে চিনতে চিনতে সে পৌঁছে গেল সুমনের কক্ষে। গিয়ে দেখতে পেল সুমন শুয়ে আছে।তার ডান হাত ব্যান্ডেজ করে গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া। কোমর থেকে বুক পর্যন্ত কোন কাপড় নেই,বেশ কিছু যায়গার চাড়মা ছিলে গিয়েছে।প্রিয় মানুষের ক্ষত শরীর চোখে দেখে নায়রার হৃদয়ে গিয়ে আঘাত লাগলো।চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না,দু ফোঁটা অশ্রু চোখ থেকে ঝরে মাস্কে গেলে তা শুষে নিলো মাস্ক।

সুমন আছে ঠিকই কিন্তু তার আশে পাশে কাউকে দেখা গেল না।সুমনের কাছে যেতেই সে নায়রাকে দেখে বেড থেকে উঠার চেষ্টা করলো।নায়রা বাঁধা দিয়ে বললো,“তোমাকে কষ্ট করে উঠতে হবে না, তুমি শুয়ে থাকো।”

এরপর পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,“তোমার পরিবারের কেউ আসেনি?”

“হ্যাঁ।গতকাল অনেকেই এসেছিল।আজ সকালে আমার বড় চাচি মারা যাওয়ায় তারা কেউ আসতে পারেনি।কিছুক্ষণ আগে মা আমাকে রেখে বাড়িতে গিয়েছে,দুপুরে ভাত নিয়ে ফিরবে।কি কপাল দেখো লোকটা একবছর হলো বিছানায় পড়ে আছে।আমি যেই আহত হয়ে হসপিটালে পড়ে থাকলাম আর লোকটাকে আজ মরে যেতে হলো।”

নায়রা বললো,“তোমাকে শান্তনা দেওয়ার মতো কোন ভাষা আমার নেই।মাত্র কদিনের ভালোবাসায় তোমার এই আহত অবস্থা দেখে চোখের অশ্রু বাহির হলে সেখানে তোমার জন্ম থেকে তাকে দেখছ। তাহলে তোমার কতোটা কষ্ট হচ্ছে বোধহয় আমি তা বুঝতে পারছি।”

“একি নায়রা তুমি দাঁড়িয়ে কেন আছো? বেডের সাইটে বড় সাইজের মোরা আছে ওখানে বসো।”

নায়রা বসে পড়লো।

সুমন তার বাঁ হাত এগিয়ে দিয়ে বললো নায়রা তোমার হাত দাও তো।
নায়রা কোন কথা না বলে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিলে সুমন নিকট। সুমন নায়রার হাতটি নিয়ে তার মুখের কাছে এনে চুম্বন করলো।নায়রা কোন লজ্জা পেল না,বরং এই চুম্বনে তার শরীর জুড়ে শিহরণ জাগলো।

নায়রা বললো,“জানো সুমন তোমার অসুস্থতার কথা শুনে আমি কেঁদেছিলাম। এখানে এসে তোমার শারীরিক অবস্থা দেখে কান্না ধরে রাখতে পারিনি,এই দেখো এখনো চোখের কোণে পানি লেগে আছে।”

“নায়রা আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে না। তুমি এখানে আসার সময় তোমার চোখে পানি দেখেছি।”

“কাল রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মোনাজাতে তোমার সুস্থতা কামনা করলাম,সেই সাথে তোমাকে যেন চিরজীবন কাছে পাই, তোমার সাথে যেন আমার হাশর হয় আল্লাহর কাছে তাই চাইলাম।”

সুমন সামান্য হেসে নায়রার মাথা বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো,“তোমার দোয়া যেন সত্যি হয়।”

দুপুর বেলা সুমনের মা আসলো। সুমন তার মাকে পরিচয় করিয়ে দিলো নায়রা তার কলেজ বান্ধবী। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সে নওগাঁ থেকে ছুটে এসেছে।….

৬.
সেদিন দেখা হওয়ার পর দুই মাস কেটে গেল আর দেখা করেনি কেউ।তবে ফেসবুক,ফোন কলে যোগাযোগ সচল ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সুমনের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ হচ্ছে না। সকালে মেসেজ করলে তার উত্তর আসে রাতে।রাতে মেসেজ করলে উত্তর আসে সকালে,ব্যাপারটা এরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুমন বলেই দিয়েছে কাজের প্রচুর চাপ যার কারণে ফেসবুক এক্টিভ থাকলেও মেসেজ করার সুযোগ পাবে না। দীর্ঘ সময় ধরে সুমনের সাথে কথা না হওয়াতে নায়রার বেশ খারাপ লাগছিল,কোন কিছুই যেন ভালো লাগছে না তার।সব কিছু এলোমেলো মনে হচ্ছে।

৭.
মাগরিবের আজান হচ্ছে, নিলুফা বেগম নায়রাকে হাঁসমুরগি তুলতে বলে অযু করতে কল পাড়ে গেল। মা-বাবা দুজনেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, নিলুফা বেগম মেয়েদের নামাজ পড়ার কথা বলতে বলতে মুখে ব্যাথা ধরে ফেলেছেন। কিন্তু মেয়েদের মানাতে না পারায় এখন আর বলেন না।গোয়াল ঘরে গরু,খাসি,হাঁস-মুরগি তুলে রেখে নিজের ঘরে এসে বসলো নায়রা।সুমনের সাথে ঠিক মতো যোগাযোগ করতে পারছে না জন্য নায়রা ও আর ঠিক ভাবে ফেসবুকে আসে না।
মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুক অন করতেই দেখতে পেল মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে,একটি অপরিচিত মেয়ের মেসেজ।
মেসেজ বক্সে ক্লিক করে মেসেজ পড়তে লাগলো,
“হ্যালো,
নায়রা আমি আঁখি মানে সুমনের গার্লফ্রেন্ড।প্রায় এক বছরের কাছাকাছি ধরে আমাদের রিলেশন চলছে। মাঝেমধ্যে আমাদের প্রচন্ড রকমের ঝগড়া হয় আর সে ঝগড়ার ফলে পনেরো ষোল দিনের মতো দুজনের যোগাযোগ অফ থাকে।কিন্তু এবারে একটু বেশিই সময় হয়ে গেছে।গত দুই মাস আগে আমার এক বন্ধুর সাথে কথা বলতে দেখতে পেয়ে সন্দেহ নিয়ে সুমন আমার সাথে ঝগড়া করে শুরু করে।এমন কি আমার গায়ে হাত তুলেছিল।রাগের মাথায় তাকে বলেছিলাম, আমার মতো মেয়ে দেখে তোর সাথে সম্পর্ক রেখেছে।আমি ছাড়া আর কোন মেয়ে তোর কপালে জুটতো না। কোনদিন জুটবেও না।আমি চলে গেলে আর খুঁজে পাবে না।

সুমন আমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলে,“আজ থেকে তিন মাসের মধ্যে মেয়ে পটিয়ে দেখাবো। যতোদিন তোমার এই অহংকার না ভাঙতে পারবো ততোদিন তোমার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ কিংবা কোন প্রকার যোগাযোগ রাখব না।

গত সপ্তাহে আমাদের সব ঝামেলা মিমাংসা হয়ে যায়।সুমন তোমার সাথে আর কোন প্রকার যোগাযোগ রাখবে না।তুমি ভালো থেকো,আর হ্যাঁ তুমি ও সুমনের সাথে যোগাযোগ করার কোন প্রকার চেষ্টা করবে না;কথাটা যেন মনে থাকে।এরপর সুমন কোন ভাবে বিরক্ত করলে কিংবা মেসেজ করলে আমাকে বলে দিও।

তোমার হয়তোবা মনে হতে পারে আমি যে সব কথা বলছি তার সব মিথ্যা,তাই প্রমাণ হিসেবে তোমাকে আমার আর সুমনের মধ্যেকার কিছু ছবি পাঠিয়ে দিলাম।আশা করি সব কিছু বুঝতে পারবে।
ভালো থেকো
বাই।

লিখা গুলো পড়তে গিয়ে প্রতিটি লাইন যেন গুলির মতো তার বুকে এসে বিঁধে গেল।এসবের জন্য সে কোন ভাবেই প্রস্তুত ছিল না।চোখ থেকে টপ টপ করে অশ্রু গড়িয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে গিয়ে জমা হচ্ছে।একবারের জন্য তার মনে হয়েছিল এই সব কিছু মিথ্যা,কিন্তু ছবি!তা কি করে মিথ্যা হতে পারে?আরেকবারের জন্য মনে হয়েছিল,”সুমন যদি সত্যি সত্যি তাকে ভালোবাসে থাকে সে ফিরে আসবে সেই সাথে মেসেজ করে বলবে,“এই সব কিছু মিথ্যা,ছবি গুলো ইডিটিং করা।”

আঁখি নামের সেই মেয়েটির কথা ঠিক প্রমাণিত হলো,দিনের পর দিন কেটে এখন একটি বছরে পূর্ণ হয়ে গেল।সুমনের কোন মেসেজ কিংবা ফোন আসলো না।শুধু মাত্র আমি ও আমার অপেক্ষা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেলাম।প্রেম প্রেম খেলায় আমি কারো প্রেমিকা হতে পারলাম না,শুধু খেলার পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হলাম।

যে ভালোবাসার অসুখ থেকে মুক্তি দিতে সে আমার জীবনে এসে কড়া নাড়লো।তা থেকে মুক্তি দেওয়ার বদলে আরো একবুক অসুখ আমার বুকের ভিতরে নিক্ষেপ করে সে নিরবে চলে গেল।

সর্বশেষ - সারা দেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত

পাবনায় ৪টি বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমান গোলাবারুদ সহ পূর্ব বাংলা সর্বহারার ৫ সদস্য গ্রেফতার

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের উদ্যেগ মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প-বাইডেনের ভিন্ন কৌশল

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প-বাইডেনের ভিন্ন কৌশল

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস পালিত হয়েছে

এমপির বরাদ্দে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অসহায়দের সহায়তা

ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

শৈলকুপায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০

কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন এলাকায় অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করে ৫,০০০ পিস ইয়াবাসহ একজন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫

তানোরে প্রেমের টানে বরিশাল থেকে আসা ইডেন কলেজ ছাত্রী হাসপাতালে

%d bloggers like this:

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট